বিজনেস শুরু করার ১০ টিপস

The shortest path for ফাঁকিবাজ

বিজনেস শুরু করার প্রথম মাসের পাঁচটি কাজ এইখানে

মানুষিক প্রস্তুতি:

বিজনেস করে টাকা কামাবা, ভাব পেটাবা, আয়েশ করবা কিন্তু কষ্ট করবা না, সেক্রিফাইস করবা না- তা হবে না। একজন সাধারণ চাকরিজীবী যে পরিশ্রম করে তার চাইতে দ্বিগুণ, তিনগুণ শ্রম, চেষ্টা সাধনা দেয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে না পারলে- বিজনেস তোমার জন্য না।

ছ্যাঁচড়ামি ওরফে মার্কেটিং:

বিজনেস শুরু করার প্রথম মাসে- তোমাকে হাজারটা জায়গায় ঠুসা দিতে হবে। খোঁচা মারতে হবে। একবার দুইবার না করে দিবে তারপরেও আবার যাইতে হবে। অন্য মানুষের খুঁজে বের করতে হবে। আগে ইগোর জন্য যার সাথে কথা বলতে চাইতে না। এখন তাকে তেল মারতে হবে। বিজনেস করতে করতে একটা লেভেলে উঠার আগ পর্যন্ত তোমাকে এইটা চালিয়ে যেতে হবে। তারপর তুমি লোক হায়ার করবা তারা একটা প্রসেস ডেভেলপ করে বাকিটা চালিয়ে নিবে। কিন্তু শুরুটা তোমাকেই করতে হবে।

বিজনেস আইডিয়া:

তোমার বিজনেসের আইডিয়া ইউনিক হতে হবে এমন কোন কথা নাই। তোমার টেকনিক ভালো হতে এমন কোন কথা নাই। বরং বিজনেস করতে করতে তোমার আইডিয়া মডিফাই হবে, চেইঞ্জ হবে। আমার এক বড়ভাই বলছেন- "in the world of transaction, your idea/skill/knowledge brings as much value as much you you can sell" সো, তুমি যদি রেভিনিউ জেনারেট না করতে পারো- তোমার আইডিয়ার ভ্যালু শূন্য।

বিজনেস প্ল্যান:

একটু চেখে দেখলাম, ট্রাই মারলাম। সেটা মনের মধ্যে থাকলে, বিজনেস করার দরকার নাই। স্ট্যাবল জব করো। সেটাই তোমার জন্য ভালো। বিজনেস করার ইচ্ছা থাকলে একটা কথা মানে রাখবে- "Do or do not. There is no try."।

হাতের কাছের মুরগি ধরো:

স্টার্ট উইথ ইউর ফ্রেন্ড। তুমি স্পেশাল ডিজাইনের ড্রেস বিক্রি করতে চাও। অনলাইনে বা দোকানে। দোকান দেয়ার আগে তোমার ফ্রেন্ডদের কাছে বিক্রি করো। কলিগদের সাথে ট্রাই করো। আশেপাশের লোকজনের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করো। তোমার ডিজাইন সেন্স অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য কিনা। সেটা বুঝে ফেলবে। প্রোডাক্টের কোয়ালিটি এডজাস্ট করা লাগলে এদের সাথে সহজেই করে ফেলতে পারবে। তুমি যদি ভালো প্রোডাক্ট বা ভালো সার্ভিস দাও তাহলে এদের কাছে তোমার প্রোডাক্ট দেখে অন্যরা জানতে চাইবে। এবং তুমি তোমার টার্গেট মার্কেট পেয়ে যাবে।

অথবা তোমার টার্গেট মার্কেট যদি তোমার আশেপাশের মানুষ না হয়। তাহলে সেই টার্গেট গ্রুপের লোকজনের সাথে গিয়ে মিশে তাদের ফ্রেন্ড হও। তারপর তাদের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করো।

লার্ন কুইকলি, এডজাস্ট কুইকলি:

ধরো তুমি প্লাস্টিকের জুতা বিক্রি করতে চাচ্ছ। কিন্তু ৯০% লোকজন বলতেছে চামড়ার জুতা চায় তারা। সো, তোমার হয় প্লাস্টিকের জুতা চেইঞ্জ করে চামড়ার জুতা বানাতে হবে। অথবা যাদের কাছে এতদিন বিক্রি করার চেষ্টা করছো তাদের বাদ দিয়ে অন্য কারা প্লাস্টিকের জুতা করা কিনতে পারে তাদের কাছে যেতে হবে। এমনও হতে পারে এক বছরে আট-দশবার তোমার প্ল্যান, স্ট্রাটেজি, এপ্রোচ চেইঞ্জ করতে হবে। এই চেইঞ্জ করাটাই, এই গেইম খেলাটাই বিজনেসের আসল মজা।

শুরুতে সব খাইতে যাইও না পেট খারাপ হবে:

একটা প্রোডাক্ট বা একটা সার্ভিস নিয়ে শুরু করো। যা পাব তাই খাবা করতে গেলে, কিংবা সবার জন্য কাস্টমাইজড করে জিনিস রেডি করতে গেলে, তোমার শুরুর দিকে ফোকাসড থাকাটা টাফ হয় যাবে। কাস্টমার লয়াল্টি পাওয়া টাফ হয়ে যাবে। আর লয়াল কাস্টমার ছাড়া একটা বিজনেস বেশিদিন টিকবে না। তাই একটা জিনিস করো, সেটা ভালোভাবে করো।

কত চার্জ করবো

শুরুর দিকে লাভ কত বেশি হচ্ছে সেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করা যাবে না। বরং কাস্টমার ধরার দিকে বেশি ফোকাসড হওয়া লাগবে। এইজন্য অনেক কোম্পানি শুরুতে কম দামে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস দেয়। পরে অল্প একটু ফিচার বাড়িয়ে দিয়ে বলে- তুমি যদি বেসিক প্যাকেজ নাও তাইলে আগের সমান দাম আর এক্সটা এইটা নিতে চাইলে এতো বেশি দিতে হবে।

বিজনেসের নাম:

কোম্পানির নাম যত চমৎকারই হোক না কোনো, কেউ যদি তোমার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস না নিতে চায়। নাম দিয়ে কোন লাভ হবে না। তাই বিজনেস শুরু করার প্রথম মাসে নাম, রেজিস্ট্রেশন, বিজনেস প্ল্যান এইগুলা নিয়ে সময় নষ্ট করবা না। সামনের মাসে এইগুলা নিয়ে চিন্তা করা যাবে।

একটাই জিনিস মেটার করে:

সেটা হচ্ছে ইমপ্লিমেন্টেশন। কত আলতু ফালতু লোক দেখবা, ফাউল কনসেপ্টের বিজনেস করে, ক্লায়েন্টের সাথে ভালো রিলেশন মেনটেইন করে বহাল তবিয়তে দেদারসে ব্যবসা করে যাচ্ছে। তুমিও সেই স্টেজে যেতে পারবে যদি মিনিমাম ৫ বছর লেগে থাকতে পারো। এর মধ্যে অনেক ঝড় ঝাঁপটা আসবে, অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে তারমধ্যে লেজ গুটিয়ে না পালালেই তুমি একটা সময় পরে স্ট্যাবল হয়ে যাবে।

সঙ্গেই থাকুন::

হুট হাট করে মাঝে মধ্যে লেখা আসবে


FB post




Question or Feedback:

যদি লোকসম্মুখে প্রশ্ন জিগ্গেস করতে বা উপদেশ, বকাঝকা, গালাগালি, হুমকি দিতে সংকোচ লাগে তাইলে ইমেইল করে দেন [email protected]