ট্রুথ এন্ড টিপস এবাউট আম্রিকা -১

সব ট্রুথ এন্ড টিপস

অদ্ভুত বিদঘুটে গন্ধ ::

১. কোন বাঙালি বাসায় ৬ টায় দাওয়াত থাকলে আমরা সাড়ে সাতটা কি আটটায় সেখানে যাই। কারণ হিসেবে বলি, বাচ্চা রেডি হইতে, খাইতে সময় লাগছে, ব্লা ব্লা ব্লা। আর যদি কোন আম্রিকান বাসায় ৬ তে দাওয়াত থাকলে, আন্ডা-বাচ্চা বউ সহ ঠিকই ৬টা বাজার ১০ মিনিট আগে হাজির। কি অদ্ভুত!!

২. সাধারণত দোকানগুলিতে দামাদামি করা যায় না বা কেউ করে না। যা দাম লিখা আছে তাই দিয়ে কিনে ফেলে। তবে ভারতীয়, পাকিস্তানি বা চাইনিজ দোকানে দেশী স্টাইলে দামাদামি চলে, দেদারসে।

৩. আমরা বাসায় মশলা দিয়ে, মাছ, মাংস, তরকারী যাই রান্না করি না কেনো, সেই মশলার গন্ধ আমাদের জামা কাপড়ে লেগে থাকে। সেটা আমরা টের পাইনা কিন্তু আম্রিকানরা ঠিকই টের পায় এবং চরম বিদঘুটে সেই গন্ধ। আর সেন্ট মারলে, মাছের গন্ধ- সেন্টের সাথে মিশে আরো অদ্ভুত একটা বাজে গন্ধ হয়।

গ্যাস ::

৪. পেট্রোলরে এইদেশে বলে, "গ্যাস"। তবে, এই গ্যাস মানে গ্যাসীয় বা বায়বীয় কোন জিনিস কিংবা আমাদের দেশের সিএনজি না। এই গ্যাস হচ্ছে, গ্যাসোলিন এর সংক্ষিপ্ত রূপ। তাই পেট্রোল পাম্পরে বলে গ্যাস স্টেশন। গ্যাস স্টেশন, পেট্রোল ডিজেল পাইলেও কোন গ্যাস পাওয়া যায় না।

৫. গ্যাস স্টেশনে, এক গ্যালন পেট্রোলের চাইতে এক গ্যালন পানির বা কোকের দাম বেশি।

৬. গ্যাস স্টেশনের বাইরে গ্যাসের যে দাম বড় করে লেখা আছে, সেটা বিশ্বাস করার কোন কারণ নাই। কারণ, নিচে ছোট্ট করে লেখা থাকে, "উইথ কার ওয়াশ"। তারমানে, আপনি পেট্রোল কিনার সাথে সাথে গাড়ি ধুইলে (গাড়ি ধোয়ার জন্য টাকা দিলে), গ্যাসের দামে একটু ছাড় পাবেন। আর গ্যাসের দামের সাথে ট্যাক্স কত সেটা বলা থাকে না। পরে কিন্তু ট্যাক্সও যোগ করে দিবে।

৭. গ্যাসের দাম, প্রতি গ্যালনে ৫ সেন্ট কম পাবার আশায়, আমরা দুই - তিন মাইল দুরের গ্যাস স্টেশনে যাই। ধরেন, আপনি ম্যাক্সিমাম বিশ গ্যালন তেল নিয়ে, ২০x ৫ = ১০০ সেন্ট বা ১ ডলার সেইভ করতে গিয়ে, যাইতে আসতে যে সময় লাগছে এবং গাড়ির তেল যতটুকু পোড়াইছেন, তাতে আলটিমেটলি লাভ হয় না।

৮. গ্যাস নেয়া শেষ করার সময় এমন আসতে আসতে করে গ্যাস নেয়া শেষ করি, যাতে $২০.০০ এর সমান সমান খরচ হয়। কোন কারণে $২০.০১ যাতে না হয়ে যায়। এমন একটা ভাব যে, এক সেন্টের গ্যাস বেশি নিলে, দুনিয়া উল্টে যাবে।

কুসংস্কার ::

৯. কোন কাজে বা কোন কিছুতে কনফিডেন্স কম থাকলে, ভালো ফলাফল আশা করার জন্য বাঙালিরা যেমন, মান্নত করে, দুয়া দুরুদ পড়ে, তেমনি, আম্রিকানরা কাঠে আঙ্গুল দিয়ে ঠক ঠক করে বলবে, "নক দ্যা উড"। আশে পাশে কাঠ না থাকলে, মুখে বলবে, "নক দ্যা উড"। যেমন, একজন যদি বলে, আজকে বাংলাদেশ খেলায় জিতবে। সত্যি সত্যিই তাই জেনো হয়, সেই আশায় পাশের জন বলবে, "নক দ্যা উড"। আর সেটা করার পর, শাহাদাত আঙ্গুলের উপরে মাঝখানের আঙ্গুল রেখে বলবে, "ফিঙ্গার ক্রসড" দুই আঙ্গুল ক্রস করলেই, গুড লাক পাবে।

১০. কোন একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, নতুন কারো কাছে হেরে গেলে, গাল ভর্তি হাসি দিয়ে বলবে, "বিগিনার্স লাক"

১১. বার্থডে কেক এর উপর যত মোমবাতি আছে, সবগুলা এক ফু দিয়ে নিভাতে না পারলে অমঙ্গল হয়।

১২. ধরেন আপনি বলছেন, আজকে বাংলাদেশ জিতবে। পরে দেখা গেলো, বাংলাদেশ জিতলো না, তখন বলবে, আপনি জিন্ক্স করছেন।

FB post




Question or Feedback:

যদি লোকসম্মুখে প্রশ্ন জিগ্গেস করতে বা উপদেশ, বকাঝকা, গালাগালি, হুমকি দিতে সংকোচ লাগে তাইলে ইমেইল করে দেন [email protected]