দাওয়াতে বেশি করে খাওয়ার এক ডজন টিপস।

সব ট্রুথ এন্ড টিপস

পেটের জায়গার নিত্যতার সুত্র::

১. প্রথমেই মনে রাখতে হবে, "পেটের জায়গার নিত্যতার" সুত্র। আপনার পেটে মোট জায়গার পরিমান নিদৃষ্ট। তাই কোক ফানটা বা ফালতু এপেটাইজার বা ডিম বা শসা, গাজর, টমেটো খেয়ে মূল্যবান জায়গা ভরাট করে ফেলবেন না। পস্তাইতে হবে। মেইন কোর্সের, ভালো আইটেমের জন্য জায়গা খালি রাখুন। আর ডেজার্ট এর কথাও ভুলবেন না যেনো।

প্রি স্কিনিং::

২. দাওয়াতে গেলেই ফাস্ট গিয়ে খাবারের ছবি তুলবেন। ডিফারেন্ট সাইড থেকে, অনেক অনেক এঙ্গেলে। তবে, এই ছবি তোলার মূল উদ্দেশ্য কিন্তু ফেইসবুকে আপলোড করা না। বরং কোন কোন আইটেম ভালো হইছে বা আপনি খাবেন সেটার জন্য প্রি-স্কিনিং করা। যাতে খাবার নেবার সময় লেস ইম্পর্টান্ট আইটেম নিয়ে প্লেট ভরায় না ফেলতে হয়।

৩. সামথিং লুকস গুড, ডাজেন্ট গ্যারান্টি ইট উইল টেস্ট গুড। দেখতে চমৎকার কোনো আইটেম দেখেই ওইটা দিয়ে প্লেট ভরাট করে ফেলবেন না। তাই প্রি-স্কিনিং স্টেজে সংযত থাকুন। ইনিশিয়াল স্ট্রাটেজি ঠিক করলেও, ডিসিশান ফাইনাল করবেন না। ধৈর্য ধরুন। পরের রাউন্ডে পুষায় নেবার চান্স পাবেন।

৪. গেইম অফ প্লান। কমপক্ষে তিন ইনিংস খেলতে হবে। প্রথম রাউন্ড T-20 অল্প অল্প করে নিবেন। চেখে দেখবেন কোনটা ডেলিশ আর কোনটা মালিশ টাইপের। এই ইনিংস শেষে, ওয়ান ডে স্টাইলে খাবেন। এইটাই আসল রাউন্ড। তবে এই রাউন্ডে পেট পুরাপুরি ভরাট করে ফেলা যাবে না। শেষে টেস্ট ম্যাচ খেলতে হবে কিন্তু। টেস্ট খেলার নিয়ম হচ্ছে, যেই আইটেম খুব ভালো লাগছে সেটা আস্তে আস্তে গল্প করতে করতে খাবেন। উপর দিয়ে তিনবার আঙ্গুল বুলাবেন তার পর কিঞ্চিত অংশ হালকা জিহ্বা বের করে, আলতো স্টাইলে, মুখ অল্প ব্যাঁকা করে ঢুকায় দিবেন। এমন একটা ভাব যে খাবারের দিকে আপনার মনোযোগ নাই, গল্পের দিকেই মনোযোগ বেশি। তাই গল্প করতে করতে টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও, দুই একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ স্টাইলে, আবারো প্লেটে খাবার নিলে পাবলিকে টের পাবে না। তবে, পাওয়ার প্লে বা ফ্রি হিট খেলার একদম দরকার নাই। ইনজুর্ড হয়ে যাওয়ার চান্স বেশি।

ষ্টার কাবাব ম্যাথড::

৫. ধরেন, ভদ্রতা বশত সবাই একটা করে মুরগির রোস্ট নিচ্ছে। আপনি দুইটা নিতে চাচ্ছেন। সেজন্য এই ম্যাথড খুবই উপযোগী। আপনাকে যা করতে হবে সেটা হচ্ছে, প্রথমেই রোস্ট টা নিয়ে তার উপরে রাইস দিয়ে ঢেকে দিবেন। তারপর লাইন ব্রেক করে, কাউরে কুশলাদি বিনিময় করার স্টাইলে রোস্ট রাইসের উপ্রে রেখে, খাইতে চলে যাবেন। খাবারের সময় খেয়াল রাখবেন উপরের রোস্ট খাওয়া শেষ হবার আগে, কোনো অবস্থাতেই রাইসের ভিত্রে কিডনাপ করা পিছ খান যাতে বের না হয়ে যায়। কেলেংকারিত হবার রিস্ক কেনো নিবেন।

৬. ইটিং ইজ ওয়ার্কিং আউট। প্রথমবার প্লেট ভরে নিবেন না। চারপাশের লোকজন আড় চোখে তাকাবে। পাশের দুই একজন মজা করে বা তামাশার স্টাইলে মন্তব্য ছুড়ে দিতেও পারে। তাই কি দক্কার। বরং বার বার উঠে গিয়ে খাবার আনতে গেলেও একটু এক্সারসাইজ হবে। এটলিস্ট গ্রাভিটির কারণে কিছু খাবার হজম হয়ে গেলে, এতে অবাক হবার কিছু নেই।

গিফটের নিত্যতার সুত্র।::

৭. চুজ ওয়াইজলি। আশযুক্ত খাবার যেমন, রাইস, নান রুটি কম করে নিবেন। এইগুলা ফিলার। খুব দ্রুত পেট পুরায় বা ফুলায় ফেলবে। বেশি খাইতে পারবেন না। মুরগির মাংসের বড় বড় পিস থাকলে, চিপাচাপা থেকে ছোট এক টুকরা খুঁজে বের করেন। বড় একপিচে পেট ভরাট করে ফেলা চৈলতো না।

৮. সাইলেন্ট গিফট ক্রেডিট পলিসি। সিঙ্গেল স্টুডেন্টরা সাধারনত দাওয়াত খাওয়ার সময় কোনো গিফট নিয়ে যায় না। সেটা যদি চক্ষু লজ্জায় লাগে, তাইলে পার্কিং লটে বসে থাকবেন। যখনই কোনো সিনিয়র ভাই আসবে। দেখবেন, বাচ্চা-কাচ্চা ব্যাগ নিয়ে যেতে পারতেছে না। তাইলে গিয়ে হেল্প করবেন এবং অবশ্যই গিফট বা যে খাবার বানায় আনছে সেটা, নিজে তুলে নিয়ে হেল্প করবেন। ভিতরে গিয়ে কিচ্ছু বলার দক্কার নাই। জাস্ট গিফট স্টাইলে দিয়ে দিবেন। কেউ কেউ, কিন্তু ভেবে বসতে পারে যে , আপনিই গিফট নিয়ে আসছেন।

গিফটের নিত্যতার সুত্র। বড় ভাইও যে, প্রতিদিন নতুন নতুন গিফট কিনে তা কিন্তু না। বড় ভাই, তার ছেলের জন্মদিনে যে সব গিফট পাইসে সেগুলা অন্য বাচ্চাদের জন্মদিনে দিয়ে দেয়। বা বক্সে করে কোনো খাবার কোনো দাওয়াতে নিয়ে গেলে, ওই হোস্ট আবার বক্সে করে খাবার দিয়ে দেয়। আয় ব্যয় সমান। অর্থাৎ, নীট গিফটের লেনদেন শুন্য। এইটাই গিফটের নিত্যতার সুত্র।

টেক হোম স্ট্রাটেজি::

৯. সুমেকার রেসিং। দাওয়াতে জুতা কখনই সিড়ির সামনে রাখবেন না। পাড়াই পুড়াই গুতায় গাতায় লেভেল করে ফেলবে। আর সিড়ির মধ্যে অবশ্যই রাখবেন না। তাইলে পিচ্চিপাচ্চা পোলাপান লাফালাফি দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে আপনার একজুতা নিয়ে যাবে গেইটের বাইরে। আরেকটা বেইজমেন্টের কোন চিপার মধ্যে যে নিয়ে যাবে, আল্লাহ মালুম। সো, হয় একটা জুতার লেইসের সাথে অন্যটার লেইস গিট্টু দিয়া রাখবেন। নয়, দরজার পিছনে রাখবেন। তাইলে টেনশন কম। আর বেশি কনচার্ন থাকলে ব্যাকপ্যাকে ঢুকায় ফেলবেন। তবে, সবাই যেখানে রাখবে সেখানে রাখা যাবে না।

১০. টেক হোম, ভাবি স্টাইল স্ট্রাটেজি। ধরেন আপনার অবস্থা যদি এমন হয়। পেটে আর জায়গা নাই। গলা পর্যন্ত ঠেসে ঠুসে খাইসেন। নেক্সট দুই দিন আর খাওয়া লাগবে না। তারপরেও কোনো আইটেম ব্যাগে করে বা বক্সে করে বাসায় নিয়ে যাইতে চান। তাইলে ওই আইটেমের প্রশংসা বেশি বেশি করে করেন। তিনচার বার প্রশংসা করলেই, হোস্টই আপনাকে বলবে একটু ব্যাগে করে দিচ্ছি, বাসায় নিয়ে যাও। এই ক্ষেত্রে, আমাদের শ্রদ্ধেয় ভাবীসম্প্রদায় অনেক বেশি এগিয়ে।

ডোন্ট শো উইর সোশাল স্কিল::

১১. ইউ আর স্মার্ট ইফ ইউ ডোন্ট শো উইর সোশাল স্কিল টু কিডস। আম্রিকায় জন্ম নেয়া ও বেড়ে উঠা বাচ্চার বয়স যদি চার বছরও হয় তার লগে খোশ গল্প করতে যাবেন না। আপনার ইংরেজি উচ্চারণ সে বুঝতে পারবে না। জিগ্যেস করবেন একটা আর উত্তর দিবে আরেকটা। উপস্থিত দেশী সবায় ব্যাপারাটা বুঝতে পেরে হাসাহাসি করবে। আর ভুলেও বাচ্চাদের সাথে খেলতে যাবে না। ইস্পিশালী বোর্ড বা কার্ড গেম। এগুলা লাঠিম বা ছয় গুটি খেলার মতো কিছু না। নিয়ম বুঝতে বা খেলতে গেলে লজ্জায় পড়ে যাবেন। যেমন একটা গেমস এ এনিম্যালের নাম বলতে হবে। আমিতো এনিম্যালের নাম ইংরেজিতে দূরে থাক, বাংলায়ই জানি না। আর উচ্চারণের প্রবলেম তো আছেই।

ফিউচার প্লান::

১২. থিঙ্ক এবাউট ফিউচার প্লান। যদি এই দাওয়াতের সুত্র ধরে আরো দাওয়াত পেতে চান। তাইলে ভাবীদের সাথে খাতির করুন। উনার শাড়ির আচলের লাইনারের কালারটার ম্যাচিং নিয়ে প্রশংসা করুন। ভাইয়ার লগে খাতির করলে, কোনো লাভ হবে না। অযথা টাইম নষ্ট। দাওয়াত ম্যানেজমেন্টের ফুল ডিসিশন মেকার হচ্ছেন ভাবী। ভাইয়া শুধু ইম্প্লিমেন্টার মাত্র।

বেশি করে দাওয়াত খান, ভুড়ির উপ্রে চাপ বাড়ান।

FB post




Question or Feedback:

যদি লোকসম্মুখে প্রশ্ন জিগ্গেস করতে বা উপদেশ, বকাঝকা, গালাগালি, হুমকি দিতে সংকোচ লাগে তাইলে ইমেইল করে দেন [email protected]