ট্রুথ এন্ড টিপস এবাউট আম্রিকা -2

সব ট্রুথ এন্ড টিপস

উল্টা::

১. কোনকিছু কাজ না করলে জাস্ট উল্টা দিকদিয়ে করবেন। যেমন ইলেকট্রিক সুইস অন-অফ হয় উল্টা দিকে। তালা খুলতে গেলে, এক দিক দিয়ে না খুললে অন্যদিকে চাবি ঘুরাবেন। রাস্তাঘাটে গাড়ি চালাবেন উল্টা দিকে। তারিখ লিখেতে গেলেও, মাস আগে লিখবেন এবং দিন তারপরে অর্থাৎ ১১ই আগস্ট ২০১৪ লিখে “8/11/3014” (2014 লিখতে গিয়ে 3014 লিখে ফেলছি, ভূলে। তো কি হইছে, যান না হাজার বছর এগিয়ে)

খাবার দাবার::

২. মারুচান নামে ইনস্ট্যান্ট লাঞ্চ প্যাক হবে আপনার সবচেয়ে প্রিয় ও প্রধান খাবার। মোটামুটি ১৫০ মারুচান খাইতে পারলে আপনার MS ডিগ্রী হয়ে যাবে আর PhD পাইতে হলে কমচে কম ৫০০ মারুচান খাইতে হবে। আর প্রতিদিন চোখ-কান খোলা রাখতে হবে কোন স্টুডেন্ট গ্রুপ ফ্রি পিজ্জা খাওয়াবে বা কোথায় প্রেজেন্টেশন এর সাথে ফ্রি লাঞ্চ আছে। কিসের উপর প্রেজেন্টেশন বা মিটিং, সেটা বুঝার দরকার নাই। খেয়ে চিকন হয়ে বের হয়ে যাবেন, কেউ কিচ্ছু বলবে না।

৩. দোকানে স্যান্ডুস অর্ডার দিতে গেলে। কি টাইপের ব্রেড, কি সাইজের ব্রেড, কি মাংস (বীফ, চিকেন, হ্যাম), কি ধরনের মিট (ওয়েল ডান, হাফ ডান, রক্ত ঝরে), কি টাইপের চিজ, কি টাইপের সস, এরাম এক হাজার একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। যার মাথামুন্ডু আপনি বুঝেন না। কিন্তু ভাই, আপনি যদি পিকেল (তিতা শসা) খাইতে না পারেন, তাইলে আগেই না করে দিবেন, নাইলে আপনার স্যান্ডুসটা মাটি হয়ে যাবে।

৪. ham মানে শুকরের মাংস (pork বা bacon) কিন্তু ham-burger (hamburger) বানায় বিফ দিয়ে। অর্থাৎ হ্যামবার্গার হচ্ছে বিফ বার্গার। আবার egg-roll এর মধ্যে কিন্তু ম্যাক্সিমাম সময় মাংস থাকে (পর্ক বা চিকেন)

৫. এইদেশে, সালাদের মধ্যে শসা-টমেটোর চাইতে মাংস বেশী দেখলে অবাক হবেন না। অনেক ক্ষেত্রে সালাদে কিন্তু pork বা bacon দেয়। আপনি যদি সিরিয়াস হোন তাইলে, অপরিচিত মেন্যুতে অবশ্যই জিগ্যেস করে নিবেন, পর্ক বা এলকোহল আছে কিনা।

৬. ফাস্ট ফুডের দোকানে গিয়ে, সবসময় ড্রিংকসের ছোট কাপ নিবেন। বড় বা মাঝারি কাপ নিবেন না। কারণ ড্রিংকস আনলিমিটেড। তবে মার্কিনরা ১ ডলার বেশি দিয়ে লার্জ সাইজ ড্রিঙ্কস এর কাপ কেনো নেয়, আপনি সেটা বুঝবেন না। বের হবার সময় আবার ভর্তি করে নিয়ে আসবেন যাতে পরবর্তী ১ সপ্তাহ ড্রিংক কেনা লাগবে না। আপনি কেচাপ চাইলে, আপনারে ১ টা বা ২টা না ৭/৮ টা দিবে। মনে হচ্ছে আপনি শুধু কেচাপ খাইতে আসছেন। আবার ১ ক্যান কোকের দাম ১ ডলার আর ১২টা ক্যানের দাম ৫ ডলার। এরা যে কি টাইপের ইকোনমিক্স পড়ছে কে জানে !

কেনাকাটা ::

৭. গ্রোচারি বা কাঁচাবাজার করতে গেলে দোকানে গিয়ে কিছু খুঁজে পাবেন না। এমনকি কাউরে জিগ্যেস করতেও পারবেন না। কারণ যেই জিনিস খুজতেছেন, সেটারে ইংরেজিতে কি বলে আপনি জানেন না।

ইংলিশ::

৮. যেকোনো ফর্ম পূরণ করতে গেলে, লেখা থাকবে "Print your name" এইটার মানে এই নয় যে, আপনি কম্পুটারে কম্পোজ করে তারপর প্রিন্ট আউট করবেন। এইটার মানে, কলম দিয়ে ফর্মের উপর নাম লিখবেন।

৯. আপনি যাই ইংলিশ বলেন না কেনো ওরা বুঝবে না। আপনি যদি বলেন "লেভেল" ওরা বুঝবেনা, বলবে হোয়াট হোয়াট। তারপর বলবে, "ওহহ ইউ মিন লেইভল"। সব ওয়ার্ডকেই ওদের সুরেলা করে টেনেটুনে বলতে হবে। সমাধান হিসেবে পকেটে এক টুকরা কাগজ আর কলম নিয়ে ঘুরবেন এন্ড না বুঝলে লিখে বুঝবেন।

১০. বানান করা আরেক ঝামেলা। ফোনে কাউরে ইমেইল বা বাসার এড্রেস দিতে গেলে, জান বরবাদ হয়ে যাবে। তারা Z কে বলে "জি", কেনো বলে আল্লাহ মালুম। তাই Z বলতে হইলে বলতে হবে " জিইই এজ ইন জিব্রা" আর G বলতে হইলে বলতে হবে "জি এজ ইন গার্লফ্রেন্ড"। আবার আপনি বলবেন p, তারা বুঝতে গিয়ে করে দিবে pee আর লিখবে T

১১. বাংলাদেশে আপনি যেটাকে টিসু বলেন ওরা ওটাকে বলে ন্যাপকিন (বাংলাদেশের স্যানিটারি নাপকিনের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না) আবার টিস্যু বলতে ওরা বুঝে টয়লেট টিস্যু। ওরা লিফটকে বলবে, এলিভেটর। মানিব্যাগরে বলবে ওয়ালেট। পেট্রোলরে বলবে গ্যাস (বাংলাদেশের সিএনজি গ্যাস কিন্তু না), কোকরে বলবে সোডা বা পপ । তাও চলে, কিন্তু রেস্টুরেন্ট এ খাবার শেষ করে বলবে, "ক্যান আই হেভ দ্যা চেক?" চেক মানে খাবারের বিল। লাও ঠেলা।

১১+. আফ্রিকান আম্রিকান ভাইয়ারা সাধারনত চাটগাইয়া বাংলায় কথা বলে। কথা শুনবেন মাগার কিচ্ছু বুঝবেন না। ইয়ো ম্যান, ইয়ো।

আমেরিকান কালচার ::

১২. আপনি কাউরে থাঙ্কু বললে তার রিপ্লাই “welcome” না বলে, ওরা বলবে, "নো প্রব্লেম" অথবা "you bet " এগুলা না হয় মানা গেলো কিন্তু যখন থাঙ্কু এর রেপ্লাই দেয়, "টেক ইট ইজি", এইটা আপনার মাথায় ঢুকবে না। তখন কনফিউজড হয়ে যাবেন। আপনি কি angry, নাকি খারাপ কিছু বলে ফেলছেন

১৩. রাস্তাঘাটে আপনার সাথে দেখা হলে, "হেই, হোয়াটস আপ?" বলে হনহনিয়ে হেটে চলে যাবে। আপনার উত্তর শুনার জন্য অপেক্ষা করবে না। যদি বলে, "ওহ রিয়েলি? বা সিরিয়াসলি?" সেটার মানে জিনিসটা রিয়েল কিনা জানতে চাচ্ছে না, বলতে চাচ্ছে জিনিসটা ইন্টারেষ্টিং। (personal observation)

১৪. নিয়মিত গুগল করে জানতে হবে, কোন ছুটির দিনে, আসলে ওরা কি করে। হলোউইনে কি ড্রেস পরবেন সেটা জিগ্গেস করলে কোনো উত্তর দিতে পারবেন না।

১৫. ওদের জোকস শুনে কিছু না বুঝলেও দাত কেলিয়ে হাসতে হবে। কারণ বাকিরা সবাই হাসতেছে। আর আপনি জোকস বলার পরে কেউ হাসতেছে না, মোস্ট প্রবাবলি আপনার জোকসটা রেসিস্ট হয়ে গেছে

১৬. এদের ভূগোলের জ্ঞান জঘন্য। আপনি যদি বলে, “I am from Bangladesh” ওরা বুঝবেনা। তারপর আপনি যতই বুঝাইতে চেষ্টা করবেন, "Bangladesh is next to india" সে মাথা নেড়ে নেড়ে জিগ্গেস করবে, "Which part of india"

বাংলাদেশী কমিউনিটি

১৭. উনারা প্রথম এক সপ্তাহ খাতির করবে, তারপর আর আপনারে চিনবেও না। গ্রোচারী করতেও নিয়ে যাবে না। ফোন দিলেও ধরবে না। তবে, আপনি বাংলাদেশ যাচ্ছেন সেটা শুনলে আপনার খাতির যত্ন বেড়ে যাবে, কারণ উনাদের একটা প্যাকেট বাংলাদেশ নিয়ে যেতে হবে এবং বাংলাদেশ থেকে আরেকটা প্যাকেট আচার আনতে হবে। যেটার বোতল খুলে গিয়ে আপনার সব জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যাবে।।

১৮. অন্য কেউ দাওয়াত পাইছে, আপনি পান নাই বলে মন খারাপ করে লাভ নাই। আর কেউ ফেমিলিসহ স্টুডেন্ট হলে প্রত্যেক উইকএন্ডে দাওয়াত পাবে, আর আপনি বছরেও একখান পাবেন না। শুধু ফেইসবুকে বিরানির ছবি দেখে জিহ্বার লালা আর চোখের জল মিশাবেন। তার উপ্রে থাঙ্কসগিভিং এ বিশাল টার্কি সহ শাড়িপরা ভাবীদের ছবিতে লাইক দিবেন।।

?

just take it easy... life here isn't scary...

FB post




Question or Feedback:

যদি লোকসম্মুখে প্রশ্ন জিগ্গেস করতে বা উপদেশ, বকাঝকা, গালাগালি, হুমকি দিতে সংকোচ লাগে তাইলে ইমেইল করে দেন [email protected]